Home / জাতীয় / ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলে শিল্প সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলে শিল্প সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী


Print Friendly, PDF & Email

নিউজ হবিগঞ্জ প্রতিনিধিসৈয়দ রাশিদুল হক রুজেনঃবাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে বিকশিত করার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্কৃতি চর্চা, এর কার্যক্রম পরিচালনা শুধুমাত্র রাজধানী কেন্দ্রিক না রেখে দেশের সর্বত্র এর প্রচার, প্রসার সম্প্রসারিত করাও তাঁর স্বপ্নের অšতর্নিহিত অন্যতম একটি বার্তা ছিল। কালের আবর্তে তাঁর সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আজ সুশোভিত, দেশব্যাপী পরিব্যাপ্ত, কর্ম-চাঞ্চল্যে ভরপুর, দেশের ভূখন্ড পেরিয়ে এর কর্মকান্ড আজ বিশ্বপরিমন্ডলে সমাদৃত। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য যে স্বপ্নদ্রষ্টা তাঁর সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর এই বিশাল কর্মকান্ড দেখে যেতে পারেননি। শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার সুচনা লগ্নেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে এদেশের কিছু বিশ্বাসঘাতকের বুলেটের আঘাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে নিহত হন। বর্তমান সরকারের নানা েেত্র সাফল্যের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সমগ্র দেশের শিল্পী ও শিল্পের বিকাশ, জেলা থেকে উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমীর অবকাঠামো তৈরীসহ নানা ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই প্রথমবারের মতো প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী গঠনতন্ত্র ও বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস তৈরি করে প্রেরণ করা হয়েছে এবং একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীকে প্রতি বছর ৪৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা  হচ্ছে যা সকল জাতীয় দিবস, বাংলা নববর্ষ, রবীন্দ্র জন্মজয়šতী, নজরুল জন্মজয়šতী, পৌষ মেলা, বসšত উৎসব, বর্ষা বরণ, ২০ মার্চ শিশুনাট্য দিবস, ২১ মার্চ পুতুলনাট্য দিবস, ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস, ২৯ এপ্রিল বিশ্ব নৃত্য দিবস, ২১ জুন বিশ্ব সংগীত দিবস, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সঙ্গীত- নৃত্য- নাটক- চারুকলা- তালযন্ত্র বিষয়ক প্রশিণ কর্মশালা পরিচালনা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের আয়োজনে ব্যয় হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের গুণী শিল্পীদের স্বীকৃতি প্রদানের ল্েয প্রতিবছর ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা’ প্রদান করা হচ্ছে। ৪৪টি জেলা শিল্পকলা একাডেমী সংস্কার, ১৬টি জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ১ম পর্যায়ে ৩১টি উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং ৪৮৬টি উপজেলা মুক্তমঞ্চ নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গনের পুকুরটি সংস্কার করে নান্দনিক জলমঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।জাতীয় এবং আšতর্জাতিকমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে গত ৩ বছরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সংস্কৃতি পিপাসু মানুষের অšতরে আসন করে নিয়েছে। সার্ক ফোক ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল, ৬ষ্ঠ এশিয়ান আর্ট মিউজিয়াম ডিরেক্টর ফোরাম ২০১২, ১৫তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১২, ১৬তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৪, ঢাকা আর্ট সামিট ২০১২ ও ২০১৪, কালচারাল ডাইভারসিটি মিনিষ্ট্রিয়াল ফোরাম, ‘স্বাধীনতার ৪০ বছর ও শিল্পের আলোয় মহান মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক বিশাল শিল্পযজ্ঞ, নাট্যউৎসব ও কর্মশালা, রবীন্দ্র সার্ধশত জন্মবার্ষিকী ও নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার ৯০ বছর পূর্তিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি, সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৪, জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী, নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী, ৬৪টি জেলায় ৬৪টি সাহিত্য নির্ভর নাটক নির্মাণ, শিল্পকলা একাডেমীতে ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন, দেশের সকল অঞ্চলে শিল্পীদের তালিকা ডাটাবেজ করে ‘আর্ট ডিরেক্টরী অব বাংলাদেশ’ নির্মাণ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী অ্যাক্রোবেটিক দল গঠন ও ৬৪টি জেলায় প্রদর্শনীর আয়োজনসহ  আšতর্জাতিক েেত্র সাংস্কৃতিক গৌরবজ্জ্বল পদচারণা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ড।  যাত্রা শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে নতুন নীতিমালা তৈরী করা হয়েছে। শিল্পের সকল শাখার শিল্পীদের কল্যাণে শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে, যার সুফল অতি শীঘ্রই শিল্পীরা পাবেন বলে আশা করা যায়। লোকশিল্পের ঐতিহ্য সংরণ, আšতর্জাতিক পরিমন্ডলে শিল্প সংস্কৃতির প্রচার, শিশুকিশোরসহ সকল মানুষের জন্য শিল্প-সংস্কৃতি নিশ্চিত করা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিল্পযজ্ঞ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী অনন্য অবদান রেখে চলেছে।বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশ জেলা ও উপজেলাকে পাশ কাটিয়ে কখনই সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন জেলা শিল্পকলা একাডেমীকে গতিশীল করা এবং উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা। এইল্েয বর্তমান সরকারের সময়ে ৪২ জন কালচারাল অফিসার নিয়োগ, ১৯ জন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ, ৬৩টি জেলার জন্য আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে ২৩০ জন কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। ৪৮৬টি উপজেলায় মুক্তমঞ্চ নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । এই সময়ে ১৯৮৭-৮৮ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রশিক ও তালযন্ত্র সহকারীদের সম্মানী ৪০০/- ও ৫০০/- টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০০০/- ও ১২০০/- টাকা করা হয়েছে এবং প্রতিজনের সম্মানী ৩০০০/- টাকা করার প্র¯তাব মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে।জেলা শিল্পকলা একাডেমী সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও অন্যান্য কর্মকান্ড বা¯তবায়নের জন্য কোন বছর ৩৫ হাজার, কোন বছর ৫০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে যা অত্যšত অপ্রতুল। সারা বছরের সাংস্কৃতিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে বা¯তবায়নের জন্য গত ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ১৫০০০০/- টাকা এবং বর্তমান অর্থ বছরে (২০১৩-২০১৪) ৩ ল টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। আগামী অর্থ বছর থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর অনুদান ১০,০০,০০০/-(দশ ল) এবং উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর জন্য ১,০০,০০০/-(এক ল) টাকার প্র¯তাব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাত্রা শিল্পীকে সহায়তা, যেসব জেলায় ুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করেন সেসব জেলায় ুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সেল গঠন, জেলা উপজেলা মনিটরিং সেল গঠন, বিভিন্ন বিষয়ের উপর কর্মশালা পরিচালনা, সাহিত্য নির্ভর নাট্য প্রযোজনা, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাথে সমন্বয়, প্রতিটি জেলায় নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিরূপণ ও ফোকলোর সেল গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। সংস্কৃতিবান্ধব এই সরকারের ঐকাšিতক আগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় সকল পরিকল্পনা অচিরেই বা¯তবায়িত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে ।

Share