Home / উপজেলার খবর / চুনারুঘাট / সবুজে স্নান করতে ঘুরে আসুন গ্রীনল্যন্ড

সবুজে স্নান করতে ঘুরে আসুন গ্রীনল্যন্ড


Print Friendly, PDF & Email
ইফতেখার আহমেদ ফাগুন, ইডিটর-ইন-চার্জ, নিউজ হবিগঞ্জ
Greenland Gate

গ্রীনল্যান্ড পিকনিক এন্ড শ্যুটিং স্পটের গেট। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ

 

ঈদের ছুটিতে কার নাহ ঘুরতে যেতে মন চায় ! দলে দলে সবাই বেড়িয়ে পড়ে শহরের বাইরে…কোলাহল এড়িয়ে… ব্যস্ত নাগরিক জীবনে চলার পথে অনেকেই মাঝে মাঝে অনুভব করেন শহরের বাইরের বাতাসে কি একটা জাদু আছে।

ঈদের দিন শহরের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ নাহ পেয়ে প্ল্যান করা হল পরদিন কোথাও যাওয়ার। যেই কথা সেই কাজ ! ঘুম থেকে উঠেই ফোন দিলাম নাবিল কে। মামা সম্পর্কের বন্ধু ! ফোন দিয়ে ওর বাসায় চলে গেলাম। কিছুসময় বসে নাবিলকে নিয়ে চললাম প্রতীকের বাসায়। যা সবসময় আশা করি তাই ঘটল…গভীর ঘুমে প্রতীক। নাবিল আর আমি অনেক কষ্টে তুললাম বেচারাকে। এরপর ফোন করলাম রিশান আর স্বচ্ছকে… স্বচ্ছ আরেক ঘুমপাগল। আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম ওকে নিয়ে যেতে পারব। তারপর কিভাবে জানি স্বচ্ছও চলে আসল। প্রতীক আর স্বচ্ছকে ঘুম থেকে তোলার অসাধ্য কাজ সাধন করে সবাই চলে গেলাম সিএনজি স্ট্যান্ডে।

গ্রীনল্যান্ড বাংলো। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ

গ্রীনল্যান্ড বাংলো। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ

স্ট্যান্ডে যাওয়ার পর মনে হল আমরা কোথায় যাচ্ছি সেটাই আমরা জানি নাহ। এরপর নাবিল সাজেষ্ট করল চুনারুঘাটে একটা পিকনিক স্পট ও পার্ক হয়েছে। সেখানে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আজব ! ড্রাইভার ও চিনে নাহ ঐ জায়গা।  সাড়ে বারোটায় রওনা হলাম আমরা…উদ্দেশ্য চুনারুঘাট রানীগাঁও গিয়ে পার্ক খুঁজে বের করা। প্রায় একঘন্টার মাথায় পৌঁছে গেলাম রাণীগাঁও। কিন্তু স্থানীয় মানুষ অনেকেই স্পটটার সঠিক অবস্থান জানাতে পারলেন নাহ। উড়োকথার উপর চলতে চলতে আরও কিছু দূর চলে আসলাম। ড্রাইভার বলল আমি এখানে গাড়ি দাঁড় করছি। আপনার ঘুরে আসুন। আর আমরা গাড়ি থেকে নেমেই দেখতে পেলাম গ্রীনল্যান্ড শ্যুটিং, পিকনিক স্পট ও পার্কের গেট। কিছুট উচ্ছ্বসিত হলাম তখন। কিন্তু গেটের কাছে গিয়ে দেখতে পেলাম গেট তালাবদ্ধ। আর ভিতরেও কাওকেই দেখা যাচ্ছে নাহ। দেয়ালে লিখা কর্তৃপক্ষের নাম্বারে ফোন দিলাম। সাংবাদিক পরিচয় দিতেই ভদ্রলোক জানালেন গেটে লোক পাঠাচ্ছেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই বৃদ্ধগোছের এক লোক এসে আমাদের নিয়ে গেলো বাংলোতে। বাংলোতে প্রবেশ করেই দেখা পেলাম এই বিশাল সবুজ রাজত্বের তত্ত্বাবধায়কের। উনাকে জানালাম নিউজ হবিগঞ্জ ডট কম থেকে এসেছি আমরা…ফিচার রিপোর্ট করা ও ঘুরার জন্য। কথায় কথায় জানতে পারলাম অনেক কিছু। উনার নাম আবিদ খান। পুরো গ্রীনল্যান্ডের দেখাশোনা উনিই করেন। প্রায় ৮৬ একর জায়গার উপর করা এই সবুজ অরণ্যের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লন্ডন প্রবাসী সৈয়দ এমদাদুল হোসেন সোহাগ। উনার বন্ধু আবিদ খান খুশিমনে ও স্বেচ্ছায় দেখাশোনা করছেন গ্রীনল্যান্ড। প্রকৃতিকে খুব কাছাকাছি থেকে দেখছেন উনি। তাই এই সবুজ গাছপালার প্রতি আলাদা একটা মমতা তৈরি হয়েছে তার।জানালেন উনি আর উনার বন্ধু দুজনের শৌখিনতার ফলাফল এই গ্রীনল্যান্ড।

গ্রীনল্যান্ডে ঘুরছি আমরা... ছবি-ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ

গ্রীনল্যান্ডে ঘুরছি আমরা… ছবি-ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ

সবুজের একেবারে কাছাকাছি... ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

সবুজের একেবারে কাছাকাছি… ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

কিছুক্ষণ কথা বলে গ্রীনল্যান্ড দেখতে বের হলাম আমরা। গ্রীনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হলাম কিছু সময়ের জন্য। মনে হল সবুজ স্নান করছি। জঙ্গল কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে এখানে। ভদ্রলোক উৎসাহ নিয়ে আমাদের একের পর এক গাছ দেখাতে লাগলেন। কি নেই এখানে… আমাদের পরিচিত গাছপালা সহ রয়েছে অনেক বিলুপ্ত প্রায় গাছে চারা। যা অনেক কষ্টে সংগ্রহ করে এখানে রোপন করেছেন আবিদ খান। হাঁটতে হাঁটতে গ্রীনল্যান্ড নিয়ে ব্যপক পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে খুব শীঘ্রই বাংলোর পিছনে তৈরি করা হচ্ছে গলফ ক্লাব, দুশো রুমবিশিষ্ট বড় বাংলো, দুস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দৃষ্টিনন্দন লেক, নিজস্ব পাওয়ার সিস্টেম, স্পটের ম্যাপ, অভ্যর্থনা জানাতে গেটের পাশে হলরুম। রোদ একটু বেশি হলেও গ্রীনল্যান্ডের সৌন্দর্য্য উপভোগ করছিলাম আমরা। হাঁটার পাশাপাশি অনেক ছবিও তুলছিলাম আমরা। পুরোটা একটা চক্কর দিয়ে আবার বাংলোতে ফিরে আসলাম আমরা। আবিদ ভাইয়ের সাথে গ্রুপছবি তুললাম আমরা। উনি আবারো বড় পরিসরে গ্রীনল্যান্ড ভ্রমণের আমন্ত্রন জানান আমাদের। ভদ্রলোকের আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধই হলাম। বিদায় জানাতে গেট পর্যন্ত চলে আসলেন উনি। ফিরে আসার সময় আমাদের ড্রাইভারকে জানালাম অনেক কিছু মিস করেছেন তিনি ! সবুজের মাঝে অবগাহন করতে আপনারাও আসতে পারেন গ্রীনল্যান্ডে। খুব ভালো একটা সময় কাটাবেন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

 

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

সবুজের ভেতর করা রাস্তা… ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

DSCN1329

দূর থেকে বাংলো। ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

DSCN1327

লেক ভিউ…ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডে যা যা উপভোগ করতে পারবেন-

  • এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। সবুজের একেবারে কাছে চলে আসবেন আপনি।
  • দৃষ্টিনন্দন লেক সাঁতার কাটা সহ নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারবেন।
  • পাখিপ্রেমীরা পাবেন বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা।
  • বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিত প্রজাতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
লেক ভিউ...ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

লেক ভিউ…ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

দূর থেকে বাংলো...ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

দূর থেকে বাংলো…ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

 

গ্রীনল্যান্ডের গাছের মোটামোটি তালিকা-

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

বাংলোর সামনে আবিদ খানের সাথে আমরা... ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

বাংলোর সামনে আবিদ খানের সাথে আমরা… ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ

আকাশী গাছ ২২০০০ টি, বেলজিয়াম গাছ ১৫০০০ টি, কাঁঠাল ৫০০০ টি, সুপারি ৫০০০ টি, উইপিং ২০০০ টি, লিচু ১৫০০ টি, নারিকেল ৫০০ টি, পেয়ারা ৫০০ টি, আম, আম্রপালী, ল্যাংড়া ও বারোমাসী ৫০০ টি, জলপাই ২০০ টি, পবনঝাউ ২০০ টি, সেগুন ৫০০ টি, লেমন গার্ডেন ও বিল্পুপ্তপ্রায় অনেক উদ্ভিদ।

গ্রীনল্যান্ডের প্রক্রিয়াধীন প্রকল্প-

  • গ্রীনল্যান্ড ডেইরী ফার্ম।
  • গ্রীনল্যান্ড পোল্ট্রি এন্ড ডার্ক ফার্ম।
  • গ্রীনল্যান্ড ব্যডমিন্টন, টেনিস এন্ড গলফ ক্লাব।
  • এছাড়াও সৌন্দর্য্যবর্ধন।
গ্রীনল্যান্ডের গেটে আমরা... ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডের গেটে আমরা… ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

ছবি তুলতে ব্যস্ত বন্ধু...

ছবি তুলতে ব্যস্ত বন্ধু…

 

 

কিভাবে আসবেন- ঢাকা, সিলেট অথবা হবিগঞ্জ থেকে চলে আসুন শায়েস্তাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরে। ঢাকা থেকে ১৬৮কিলোমিটার দূরে শায়েস্তাগঞ্জ আসতে পারেন বাসে অথবা ট্রেনে।  এরপর শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ১২ কিলোমিটার দূর চুনারুঘাট যেতে হবে মাইক্রো অথবা সিএনজি ভাড়া নিয়ে। চুনারুঘাট থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে গ্রীনল্যান্ডে তখন পৌঁছে যাবেন সহজেই।

 

 

খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা- পিকনিকে আসলে বা ঘুরতে আসলে আপনি নিজে খাবার নিয়ে আসতে পারেন। আর যদি এসব ঝামেলায় নাহ যেতে চান তাহলে কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখতে হবে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা। সেক্ষেত্রে কিছু টাকা খরচ করতে হবে আপনাকে।

 

 

নিরাপত্তা ব্যবস্থা-  গ্রীনল্যান্ডের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও আপনি চাইলে পুলিশ প্রহরাও নিতে পারেন।

 

স্পট খরচ- স্পটের ও নিরাপত্তা পরিষ্কার সংশ্লিষ্ট কাজে আপনাকে কিছু অর্থ খরচ করতে হবে। গ্রীনল্যান্ডে যেতে চাইলে আগেই স্পট বুক করে নিন এই ঠিকানায় – হবিগঞ্জ ইনফো, এম এস অনলাইন, তিনকোণা পুকুরপাড় রোড হবিগঞ্জ। মোবাইল- ০১৭১১৯০৯১৪২, ০১৮৪৩৭৪৪০৬০।

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ড তত্ত্বাবধায়ক আবিদ খানের সাথে কথা বলতে বলতে ঘুরছেন নিউজ হবিগঞ্জের সাংবাদিক  প্রতীক অধিকারী। ছবি-  ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ড তত্ত্বাবধায়ক আবিদ খানের সাথে কথা বলতে বলতে ঘুরছেন নিউজ হবিগঞ্জের সাংবাদিক প্রতীক অধিকারী। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডে ঘুরছি আমরা। ছবি-  ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডে ঘুরছি আমরা। ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

 

গ্রীনল্যান্ডে প্রবেশের রাস্তা...ছবি-  ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডে প্রবেশের রাস্তা…ছবি- ইফতেখার ফাগুন, নিউজ হবিগঞ্জ।

লেকের উপর বাঁশের সেতু। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

লেকের উপর বাঁশের সেতু। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

 

 

 

 

ছাউনী...ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

ছাউনী…ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

রাতের বাংলো। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

রাতের বাংলো। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলোর উপর থেকে গ্রীনল্যান্ড। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

বাংলোর উপর থেকে গ্রীনল্যান্ড। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

গ্রীনল্যান্ড। ছবি- গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

 

 

 

গ্রীনল্যান্ডের রাস্তার দুপাশে গাছের সারি... ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

গ্রীনল্যান্ডের রাস্তার দুপাশে গাছের সারি… ছবি- তিলোত্তম দেব রায়, নিউজ হবিগঞ্জ।

Share