Home / খেলাধুলা / সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস


Print Friendly, PDF & Email
গোনসালো হিগুয়েইন অবশেষে এই বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পেলেন। লিওনেল মেসির বিপক্ষে থিবো কোর্তোয়ার বিস্ময়কর রেকর্ড। বার্সেলোনার বিপক্ষে সাত ম্যাচ খেলা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের এ বেলজিয়ান গোলরক্ষক আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে একটি গোলও করতে দেননি। করতে দিলেন না বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও। তবে কোর্তোয়া এমন একজনের কাছে পরাজিত হলেন, যিনি আর্জেন্টিনার আগের চার ম্যাচে নিজের উপস্থিতি বোঝাতে পুরোপুরি ব্যর্থ।এ সুবাদে ঢালাও সমালোচনার মুখে পড়া গোনসালো হিগুয়েইন অবশেষে এই বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পেলেন। ব্রাসিলিয়ায় তাঁর দেওয়া একমাত্র গোলেই বেলজিয়াম বাঁধা পার করে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টাইনরা।

বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় অনুষ্ঠেয় সেমিফাইনালে তাঁদের অপেক্ষায় গতবারের রানার্স-আপ নেদারল্যান্ডস।

গত রাতে সালভাদরের এরিনা ফন্তেনোভায় শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে ডাচরা টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষায় কোস্টারিকাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সেমিতে। যে জয়ের নায়ক বদলি গোলরক্ষক টিম ক্রুল।

কোস্টারিকার রক্ষণভাগে রোবেনের ব্যর্থ হামলা।

নিয়মিত গোলরক্ষক ইয়েস্পার সিয়েসেনকে উঠিয়ে কোচ লুই ফন হাল তাঁকে এমন সময় মাঠে নামান, যখন নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটও গোলশূন্য অবস্থায় প্রায় শেষের পথে। কুশলী কোচের এ সিদ্ধান্তই শেষপর্যন্ত ডাচদের সেমিফাইনাল ভাগ্য লিখল।

টাইব্রেকারে কোস্টারিকান অধিনায়ক ব্রায়ান রইস ও মাইকেল উমানার শট আটকে দিয়ে রাতারাতি হিরো বনে যান ক্রুল।

নেদারল্যান্ডস গতবার ফাইনাল খেললেও আর্জেন্টিনার দৌড় ১৯৯০ বিশ্বকাপের পর থেকেই বড়জোর কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত।

গত দুই বিশ্বকাপেই যেমন জার্মানির কাছে হেরে শেষ আট থেকে বিদায়।

এবার সেই গেরো খোলা লাতিন আমেরিকান দলটি মনে করিয়ে দিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-বেলজিয়ামের সেমিফাইনালও।

সেবার আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিল ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির খেলোয়াড় ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুই গোল। এবারও দলকে সেমিফাইনালে তুলে নেওয়া গোলটি সেই নাপোলিরই স্ট্রাইকার হিগুয়েইনের।

গত বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করা হিগুয়েইন ম্যাচের ৮ মিনিটেই এগিয়ে নেন আর্জেন্টিনাকে। যে গোলেও কিছুটা অবদান আছে মেসির।

একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেও গোলের জন্য হাহাকারে ছিল ডাচরা। পরে ক্রুলের হাতেই জয় পায় নেদারল্যান্ডস।

মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনা অধিনায়ক পাস বাড়িয়েছিলেন ডানদিকে আনহেল দি মারিয়াকে। রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার আবার পাস দেন পাবলো সাবালেতাকে।

কিন্তু সাবালেতা নন, বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার ইয়ান ভের্টনহেনের গায়ে লেগে বল গিয়ে পড়ে বক্সের বাইরে দাঁড়ানো হিগুয়েইনের সামনে। গোল করতে ভুলে যাওয়া এ স্ট্রাইকার এবার কোন ভুল করলেন না।

প্রথম সুযোগেই দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো ভলি। চোখের পলকে বল জালে জড়াতেই উৎসবে মাতোয়ায়া আর্জেন্টাইন শিবির।

যে গোল উদযাপনে মেসি নির্ভরতার বৃত্ত থেকে বেরোনোর আনন্দও মিশে ছিল। তবে মেসিও পেতে পারতেন এই বিশ্বকাপে তাঁর পঞ্চম গোলটি। প্রথমার্ধের শেষদিকে তাঁর ইনসুইঙ্গিং ফ্রিকিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ প্রচেষ্টায় মেসিকে আটকেছেন কোর্তোয়া। তবে ৫৫ মিনিটে হিগুয়েইন আরেকবার তাঁকে হতভম্ব করে দিচ্ছিলেন। কিন্তু ক্রসবার আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় গোলটি পেতে দেয়নি। আর্জেন্টিনা তবু একটা গোল পেয়েছে। কিন্তু একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেও গোলের জন্য হাহাকার করে মরছিল ডাচরা। এক ওয়েসলি স্নেইডারকেই দু-দুবার গোলবঞ্চিত করেছে ভাগ্য। একবার ফ্রিকিক থেকে বল পোস্টে লেগে ফিরেছে তো আরেকবার প্রতিহত হয়েছে ক্রসবারে। অধিনায়ক রবিন ফন পার্সিও গোলের কত যে সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন! আর অসংখ্য সুযোগের স্রষ্টা আরিয়েন রবেনকে কখনো কখনো হতাশ করেছেন কোস্টারিকান গোলরক্ষক কেইয়ালর নাভাসও। তবে টাইব্রেকারে ডাচদের হতাশাকে আনন্দে রূপ দেন ক্রুল।

Share