Home / খেলাধুলা / জনসন ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড

জনসন ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড


Print Friendly, PDF & Email

Mitchell Johnsonরানপাহাড় গড়ে দ্বিতীয় দিনেই চালকের আসনে বসে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। আর কাল তো ইংল্যান্ডের সিরিজে ফেরার স্বপ্নটা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মিচেল জনসন। অলৌকিক কিছু না ঘটলে অ্যাডিলেড টেস্টে হার বাঁচানোটা এখন প্রায় অসম্ভব সফরকারীদের জন্য। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া লিডটা নিয়ে গেছে অ্যালিস্টার কুকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, ৫৩০ রানে। ইংল্যান্ডের শেষ হওয়া তিন ইনিংসের সম্মিলিত রানের চেয়েও যেটা বেশি। স্বাগতিকদের হাতে এখনো কিন্তু আছে আরো ৭ উইকেট! অ্যাডিলেডে জিতে সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গিয়ে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের পথে আরেকটা বড় পদক্ষেপ দেওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার অস্ট্রেলিয়ার।

গাব্বার ম্যাচসেরার ছন্দটা ধরে রেখে আরো একবার পেস আগুনে ইংলিশদের পুড়িয়ে ছারখার করলেন জনসন। অ্যাশেজের অন্যতম সেরা বোলিং প্রদর্শনী দেখিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির পর মাত্র ২৬ বলের ব্যবধানে ১৬ রান খরচায় তিনি ৬ উইকেট তুলে নিলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ইংলিশ ব্যাটিং, ১৭২ রানেই শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ৩৯৮ রানের বিশাল লিড পেয়েও ইংলিশদের ফলোঅন করাননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কাল তৃতীয় দিন শেষেই আরো ১৩২ রান তুলে নিয়েছে তাঁর দল, ৩ উইকেট হারিয়ে। মাইকেল ক্লার্ক ও ব্রাড হাডিনের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ৫৭০ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়া।

কাল জনসনের পেস ঝড়ের সামনে ইয়ান বেল ও মাইকেল কারবেরি শুধু খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে আসা তাঁর আগুনে গোলায় বাকিরা সবাই করেছেন সহজ আত্মসমর্পণ। তাদের আট ব্যাটসম্যানই তো আউট হয়েছেন এক অঙ্কের স্কোরে। জনসনের ভয়ংকর পেস বোলিংয়ের সামনে এতটাই দুর্দশা ছিল ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনের ভাষায় যেটি, ‘কয়েক বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং।’

অ্যাশেজে নিজের সেরা বোলিংয়ে ৪০ রানে জনসনের শিকার ৭ উইকেট। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশের লড়াইয়ে কোনো বাঁহাতি বোলারের ৭ উইকেট নেওয়ার এটা মাত্র চতুর্থ ঘটনা। ব্রিসবেন টেস্টে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট, অ্যাডিলেডে প্রথম ইনিংসে যোগ করলেন আরো সাতটি। অ্যাশেজের চলমান সিরিজে ৩ ইনিংসে তাঁর শিকার ১৬ উইকেট। গড়টা রীতিমতো ঈর্ষণীয়, ৮.৯. তৃতীয় ম্যাচটা কিন্তু তাঁর নিজের মাঠ পার্থে, বিশ্বের অন্যতম গতিময় উইকেটে! জনসন এ ফর্ম ধরে রাখলে আরো দুঃস্বপ্নই অপেক্ষা করছে ইংলিশদের জন্য।

জনসনদের খানিকটা বিশ্রাম দিতে নিজেরাই দ্বিতীয় দফা ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। জোড়া আঘাতে ক্রিস রজার্স ও শেন ওয়াটসনকে ৪ রানের মধ্যে ফিরিয়ে দেন জেমস অ্যান্ডারসন। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ক্লার্ককেও অল্প রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান মন্টি পানেসার। তবে ৬৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে দিনের বাকি সময়টুকু নির্বিঘ্নে পার করে দিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। আজ আর ১৭ রান করতে পারলেই সিরিজে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা পেয়ে যাবেন এই বিধ্বংসী ওপেনার। ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া : প্রথম ইনিংস : ৫৭০/৯, ডিক্লেয়ার্ড (ক্লার্ক ১৪৮, হাডিন ১১৮; ব্রড ৩/৯৮, স্টোক ২/৭০) ও দ্বিতীয় ইনিংস ৩৯ ওভারে ১৩২/৩ (ওয়ার্নার ৮৩*, স্মিথ ২৩*, ক্লার্ক ২২, রজার্স ২, ওয়াটসন ০; অ্যান্ডারসন ২/১৯, পানেসার ১/৪১)।

ইংল্যান্ড : প্রথম ইনিংস ১৭২ (বেল ৭২*, কারবেরি ৬০, রুট ১৫; জনসন ৭/৪০, ওয়াটসন ১/০, সিডল ১/৩৪)।

–সংরক্ষিত

Share